নারী প্রতিনিধি মোমেনার সাফল্য

No Comments Uncategorized

 

মোমেনা বেগম (৪২) গ্রাম ভাঙ্গামোড়, সাঘাটা, গাইবান্ধা। তিনি একদিকে ভরতখালী ইউনিয়নের ১,২,৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য অন্যদিকে ‘সবার জন্য খাদ্য’ প্রচারাভিযানের আওতায় গঠিত লোকমোর্চা কমিটির সদস্য। তার স্বামী সাহেব আলী পেশায় একজন নাপিত ৫ সদস্যের পরিবার আর্থিকভাবে খুবই অসচ্ছল। তিনি প্রথমে উদয়ন স্বাবলম্বী সংস্থার গ্রুপ সদস্য হিসাবে কাজ শুরু করেন এবং সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সবার নজরে আসেন। ২০০৭ সালে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের মাধ্যমে নারীদের উন্নয়ন বিষয়ক এক সেমিনারে আমেরিকায় অংশগ্রহণ করে তার মতামত প্রদান করেন। গত ইউপি নির্বাচনে এলাকার জনগন তাকে কোন নির্বাচনী খরচ ছ্ড়াাই ভোটে জয়যুক্ত করেন। তিনি গ্রামের বিচার শালীসীর মাধ্যমে দ্বন্দ্ব নিরসন, বাল্য ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সদা তৎপর। তিনি বাড়ি পরিদর্শন এবং মতামতের ভিত্তিতে সুষ্ঠুভাবে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীমূলক কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচন করেন।

অত্র ইউনিয়নে ভিজিডি, ভিজিএফ, কর্মসৃজন, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, টি আর কমৃসূচি বিদ্যমান। জনগণের প্রধান পেশা কৃষি মোট জনসংখ্যা ২৮২৩৩ জন। গ্রাম-১০ টি। নারী প্রধান পরিবারের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২২৬০ জন। দরিদ্র এবং অতি দরিদ্র লোক সংখ্যা পুরুষ-৫৭৩৩ জন, নারী-৫২৯২ জন, ভিজিডি-১৯৭ জন, অতিদরিদ্রের কর্মসংস্থান-১০১ জন সুবিধাভোগি। অত্র ইউনিয়নের দরিদ্র জনগণ ১ টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র এবং ৩ টি কমিউিনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহন করে থাকেন। সুবিধাভোগী নির্বাচনে গতানুগতিক, কিছু ক্ষেত্রে অর্থের লেনদেন, দলীয় কিছুটা প্রভাব, স্বজনপ্রীতি পরিলক্ষিত হয়। কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও ইউপি প্রতিনিধিদের তৎপরতা কম। স্বেচ্ছাসেবার মনোভাবও অনেক কম।

মোমেনা বেগম ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় সংরক্ষিত মহিলা সদস্য হলেও অত্র ইউনিয়নের অতিদরিদ্রের কর্মসংস্থান কর্মসূচির সুবিধাভোগি নির্বাচনে লটারীতে অংশগ্রহণ করে অতিদরিদ্রের জন্য কর্মসৃজন কার্ড পান। উল্লেখ্য তিনি একদিকে অতিদরিদ্রের কর্মসংস্থান কর্মসূচির ১০ নং প্রকল্পের সভাপতি, আবার তিনি ঐ প্রকল্পের একজন সুবিধাভোগি। তিনি ঐ প্রকল্পের সুবিধাভোগিদের সাথে রাস্তায় মাটি কাটেন রৌদ্র ও গরমের তাড়নায় যখন শ্রমিকগণ ক্লান্ত হয়ে পড়েন তিনি নিজ উদ্যোগে খাবার স্যালাইন, মাথা ব্যাথা উপশমের জন্য ট্যাবলেট সরবরাহ করেন । এমন কি এ্যাম্বুলেন্স এর নং সংগ্রহ ও যোগাযোগ করে রাখেন, যদি কেহ অসুস্থ্য হয়ে পড়েন ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমেনা বেগমের কর্মসৃজন প্রকল্পটি আকর্ষিকভাবে ভিজিট করে খুবই খুশি হন এবং তিনি বলেন, এইভাবে সকল প্রকল্পের শ্রমিকগন কাজ করলে কর্মসূচির উদ্দেশ্য সফল হতো । তিনি ইউনিয়ন উপজেলা এমনকি জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন মিটিংয়ে মমেনা বেগমের এই আন্তরিকতা ও সাফল্য তুলে ধরেন ।

মোমেনা বেগমের প্রচেষ্টা ও কৃতিত্ব দেখে নারীরা সমাজ কর্ম, রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করবেন। সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী মূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকা নির্বাহে সাময়িক সুবিধা হলেও দীর্ঘ মেয়াদি পরিবর্তন হচ্ছে না।

অসহায়, গরীব লোকই গরীবের সমস্যা বুঝেন এবং গুরুত্বসহকারে সামাজিক নিরাপত্তাবেষটনী অমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন । ইউপি প্রতিনিধিদের সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *