পরিশ্রমও হার মানলো দৃষ্টি প্রতিবন্ধি লাভলীর কাছে

No Comments Uncategorized

lavlyজীবনের কোন না কোন ঘাত প্রতিঘাতে অথবা বেঁচে থাকার তাগিদে জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে মানুষকে সংগ্রামী হতে হয় তেমনি একজন হলো গোবিন্দি মধ্য পাড়া গ্রামের হাসিখুশি মহিলা সমিতির সভাপতি লাভলী বেগম। ১০ বৎসর বয়সে সে ডান চোখে গুরুতর আঘাত পায়। অনেক চিকিৎসার পরেও চোখটি সম্পূর্ন নষ্ট হয়ে যায়। বাবা-মাসহ লাভলীর পরিবারে মোট ৮ জন সদস্য এর মধ্যে লাভলী বড়। ১৪ বছর বয়সে গোবিন্দি গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে ইসমাইলের সাথে বিয়ে হয়। স্বামীর সংসারে প্রথম দিকে তার সময়গুলো ভালো কাটছিল। স্বামী ইসমাইলও দৈনিক ভ্যান চালিয়ে আয় উপার্জন করে সংসার চালাত। কিন্তু হঠাৎ করে তার স্বামী অসুস্থ্যতার কারনে কর্মহীন হয়ে পড়ায় দিনের পর দিন বিভিন্ন জায়গা থেকে চড়া সুদে ঋন নিয়ে সংসার চালাতে থাকে। এক সময় ঋনের টাকা পরিশোধ করতে না পাড়ায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। লাভলীর সংসারে তখন ২ ছেলে। একদিকে স্বামীর এ অবস্থা অন্যদিকে সংসারে তখন প্রচন্ড অভাব দেখা দেয়। লাভলী আর বসে না থেকে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে অতিদরিদ্রের কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ৮০ দিনের মাটি কাটা কর্মসুচীতে নাম দেন। এই কর্মসূচী চলাকালে উদয়ন স্বাবলম্বী সংস্থা অক্সফাম নভিবের আর্থিক সহায়তায় হস্তশিল্পের কাজ করানোর লক্ষ্যে উক্ত গ্রামে জরিপের মাধ্যমে দল গঠন করে বিভিন্ন সেলাই এর উপর ৬ দিনের প্রশিক্ষণ করানো হয়।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধি লাভলী এ প্রশিক্ষন নিয়ে সে আর বসে নেই।পর্যায়ক্রমে ১টি চাদর,৩টি থ্রীপিচ,৪টি ফতুয়ার উপর বিভিন্ন ডিজাইনের কাজ করে ৫ মাসে মোট ১৪৫০ টাকা আয় করেছে। বর্তমানে সে একটি জামার উপর এপলিকের কাজ করছে যেটির মজুরী প্রায় ৩৫০ টাকা পাবে। শুধু তাই নয় বসতবাড়ীর আশেপাশে কৃষি সম্প্রসারণ অফিসারের সহায়তায় তাকে দেশী লেবুর ডাল কেটে চারা উৎপাদন সম্পর্কে ধারণা নিয়ে বর্তমানে সে দেশী লেবুর ডাল থেকে ১৫০টি চারা উৎপাদন করেছে। এবং প্রতি চারা ১০০ টাকা মূল্যে বিক্রি করেছে। যেখানে তার চারা উৎপাদন করতে ১টি টাকাও খরচ হয় না। সে হস্তশিল্পের ১৪৫০ টাকার সাথে আরো ৫০০ টাকা যোগ করে একটি ভেড়া ক্রয় করেছিল। বর্তমানে সে ভেড়া থেকে মোট ৪টি ভেড়ার বাচ্চা হয়েছে। এখন বাজারে তার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০০০ টাকা। লাভলীর বড় ছেলে এবার জেএসসি পরীক্ষা দেবে। তার এখন একটাই স্বপ্ন বাবা মার অবর্তমানে তাদের সন্তানরা যাতে অন্যের দাড়স্ত না হয় এ জন্য ভবিষৎ কিছু তহবিল জমানো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *