ভয়ঙ্কর দুঃখের সংগ্রামী নারী নেত্রী অমিছা বেগম

No Comments Uncategorized

romichaঅমিছা বেগম।বয়স ৭১বছর। বাবার নাম বছির বেপারী। সাঘাটা উপজেলার সাঘাটা ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে এক অতিদরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মা-বাবা ছিলেন নিরক্ষর। অমিছা বেগমের বাবা তাঁর লেখাপড়ার ব্যপারে আগ্রহী ছিলেন না। তাঁর বাবা মনে করতেন মেয়েদের লেখাপড়া করে কোন লাভ নেই। বরং সংসারের কাজে লাগলেই ভালো। ফলে অমিছা বেগম লেখাপড়া করতে পারেননি। অমিছা বেগমের দুই ভাই অন্যের বাড়ীতে বাৎসরিক কাজের লোকহিসেবে কাজ করতেন। বাবার ছাগল ও মুরগী পালনের মাধ্যমে যে আয় হতো তা দিয়ে অমিছাদের সংসার চলতো।

অমিছা বেগমের বয়স যখন ৭ বৎসর তখন তাঁর বিয়ের পয়গাম আসে ৩৫ বছর বয়সের পার্শ্ববর্তী গ্রামের এক যুবকের সাথে। বয়সের ব্যবধান বেশী দেখে অমিছা বেগমরে বাবা প্রথমে বিয়ে দিতে রাজী না হলেও পরবর্তীতে পাত্রের আর্থিক সচ্ছলতা এবং যৌতুক ছাড়াই বিয়ে দেয়ার সুযোগ তিনি হাত ছাড়া করেননি। বিয়ে কি? তা অমিছা বেগম বুঝতেন না। তিনি বিয়েতে কবুল বলতে পারেননি। তাঁর পক্ষে তাঁর বাবা বিয়েতে কবুল বলেছিলেন এবং এভাবেই তাঁর বিবাহের কাজ সম্পন্ন হয়। ছোট অমিছা বেগমের দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে কোন ধারণাই ছিলনা। ফলে, বিয়ের পর ১০ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি তাঁর দাদীর সাথে থাকতেন। এরপর, যখন তিনি স্বামীর বাড়িতে দাম্পত্যজীবন যাপনের জন্য যান তখন তিনি জানতে পারেন তার স্বামী শারিরীক প্রতিবন্ধী। পরবর্তীতে অমিছা বেগমেরবাবা যখন এ ব্যাপারে জানতে পারলেন, তখন অমিছা বেগমকে নিজ বাড়ীতে নিয়ে আসেন এবং ১১ বছর বয়সে তাঁকে আবার বিয়ে দেয়া হয় ৫০ বছর বয়সি এক বৃদ্ধ কিয়াস ব্যাপারীর সাথে। যিনি ছিলেন ৩ পুত্র ও ৩ কন্যার জনক। ছোট্ট অমিছা বেগম ৬ সন্তানের সৎমা হিসেবে তাঁর সাংসারিক জীবন শুরু করেন। তাঁর কয়েকজন সন্তান ছিল, যারা বয়সে তার চেয়েও অনেক বড় এবং তাঁর এক সৎ ছেলে ছিল বিবাহিত। তাঁর সৎ ছেলে মেয়েরা ঐ সংসারেঅমিছা বেগমের আগমনকে কোনভাবেই মেনে নিতে পারে নাই। ফলে, তারা মাঝে মধ্যেই তার সাথে খারাপ আচরণে লিপ্ত হয় এবং ঝগড়া বিবাদ করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিত। যাই হোক নানা রকম জটিলতা, অব্যক্ত যন্ত্রণা এবং কষ্টের মধ্য দিয়েই তিনিখেয়ে-না খেয়ে অনাদরে টিকে থাকার চেষ্টা করছিলেন। বয়স যখন তাঁর ১৩ বছর, তখন তাঁর নিজের প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। পরপর ০৩ সন্তানের মা হন তিনি। ছোট সন্তানের বয়স যখন ০১ বছর তখন তাঁর স্বামী মারা যান।এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে পতীত হন তিনি। এইসময় অমিছা বেগম অনাগত দিনের কথা ভেবে মানসিক যন্ত্রণায় কঁকড়ে ওঠেন। তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পর সৎ ছেলে মেয়েরা তাকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয়। কি করবেন অমিছা বেগম বুঝতে পারিছলেন না। তিনি যেন অকুল সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন। ছোট ছোট তিন ছেলে মেয়েকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়ীতে আসতে বাধ্য হন। কিন্তু বাবার বাড়ীর অবস্থা তখন এমন ছিল যে, তার বাবা এবং ভাই ও বোনেরা তাকে ৩টি সন্তানসহ ফিরে আসাকে সহজভাবে নিতে পারেনি। যেহেতু সংসারের আর্থিক অবস্থা সোচনীয় ছিল তাই তাদের আগমন ছিল মরার উপর খড়ার ঘাঁয়ের মত। তাঁর ভাই এবং ভাবীরা তাদের কোন যতœ করতো না বরং প্রায় সময়ই তারা ঝগড়াঝাটি করে তাদেরকে তাড়ানোর চেষ্টা করত।বাবার বাড়ীতে আসার আড়াই মাসের মধ্যে প্যারালাইজড হয়ে তার মা মারা যান।আরও ২ মাস পড়ে তার বাবাও বিনা চিকিৎসায় মারা যান। তখন অমিছার মাথার উপর যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। তাঁর ভাই-ভাবীরা সন্তানসহ অমিছা বেগমকে খাবার দেয়া বন্ধ করে দিল। বাধ্য হয়ে অমিছা বেগম০৩ সন্তান নিয়ে পার্শ্ববর্তী এক ধনাঢ্য ব্যক্তির বাড়ীতে আশ্রয় নিলেন এবং ঝি-এর কাজ করতে লাগলেন। সেখানে ঝিÑএর কাজ করে কোন রকমে খাবার ভাগাভাগি করে খেয়ে বিভৎস জীবন-যাপন করতে লাগলেন। কিন্তু সন্তানেরা যত বড় হতে লাগল তাদের খাবারের চাহিদাও বাড়তে লাগল। ফলে ঐ ধণাঢ্য ব্যক্তি তাকে আর রাখতে চাইলেন না। ফলে, তিনি বাধ্য হয়ে ছোট সন্তানদেরকেও অন্যের বাড়ীতে কাজে লাগিয়ে দিলেন। এহেন অবস্থায় ১৯৮৮ সালে উদয়ন স্বাবলম্বী সংস্থার কর্মীরা তার বাড়ীতে আসে এবং সমিতির ভাল মন্দ দিকগুলো তুলে ধরে সমিতি গঠন করার কথা বলেন। পরে ২০ জন দরিদ্র্য নারী সদস্য নিয়ে ঘরনী মহিলা সমিতি নামে একটি সমিতি গঠিত হয়। অমিছা বেগমকে উক্ত সমিতিতেসভাপতি নির্বাচন করা হয়। ১৯৮৮ সালে সমিতিতে দায়িত্ব পালন কালে তিনি উদয়ন স্বাবলম্বী সংস্থা থেকে নেতৃত্ব বিকাশ, আয় উপার্জন ও কর্মসংস্থান, নারী অধিকার ও পারিবারিক আইন প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সংসারের আয় বৃদ্ধির জন্য তিনি উদয়ন স্বাবলম্বী সংস্থা থেকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *